বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশ: প্যারিস মেলায় লাল-সবুজের জয়জয়কার
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে আজ বৃহস্পতিবার ৩০ এপ্রিল থেকে শুরু হয়েছে ইউরোপের অন্যতম বৃহত্তম এবং প্রাচীনতম প্রদর্শনী 'ফোয়ার দ্য প্যারিস ২০২৬' (Foire de Paris)। ১২ দিনব্যাপী এই মেলায় বিশ্বের শতাধিক দেশের সাথে তাল মিলিয়ে অংশ নিয়েছে বাংলাদেশ। প্যারিস এক্সপো পোর্ত দ্য ভার্সাই-এর বিশাল চত্বরে আয়োজিত এই মেলা এখন পরিণত হয়েছে বিশ্ব সংস্কৃতির এক মহামিলন মেলায়।
এবারের মেলায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বিগত বছরগুলোর তুলনায় বেশ চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে বাংলাদেশি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান 'তুরাগ মিলানো জুয়েলারি' তাদের আভিজাত্যপূর্ণ কালেকশন নিয়ে হাজির হয়েছে। দীর্ঘ বছর ধরে ইউরোপের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মেলায় সফলতার সাথে অংশগ্রহণ করা এই প্রতিষ্ঠানটি এবারও দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্রে রয়েছে। তাদের আধুনিক ও নান্দনিক নকশার গয়না ফরাসি ক্রেতাদের কাছে বিশেষভাবে সমাদৃত হচ্ছে।
মেলায় বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারত, চীন, মরক্কো, ইতালি এবং ভিয়েতনামের মতো দেশগুলো তাদের ঐতিহ্যবাহী পণ্য প্রদর্শন করছে।ভারত: তাদের সিল্ক এবং মশলার সম্ভার নিয়ে বড় প্যাভিলিয়ন সাজিয়েছে।মরক্কো ও তিউনিসিয়া: হস্তচালিত কার্পেট এবং সিরামিক পণ্যে বৈচিত্র্য এনেছে।ভিয়েতনাম: বাঁশ ও কাঠের তৈরি টেকসই গৃহস্থালি পণ্য প্রদর্শনী করছে। এই তীব্র প্রতিযোগিতার বাজারে বাংলাদেশের পাটজাত পণ্য, হস্তশিল্প এবং তুরাগ মিলানো-র মতো ব্র্যান্ডের জুয়েলারি পণ্যগুলো গুণগত মানে অন্য দেশগুলোর তুলনায় শক্ত অবস্থানে রয়েছে।
প্যারিস কেবল ফ্যাশনের রাজধানী নয়, বরং এটি ইউরোপীয় বাজারে প্রবেশের প্রধান দ্বার। ফোয়ার দ্য প্যারিসে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা সরাসরি ফরাসি ভোক্তাদের নাড়ি নক্ষত্র বোঝার সুযোগ পাচ্ছেন। মেলা পরিদর্শনে আসা এক ফরাসি দর্শনার্থী জানান, "বাংলাদেশি পণ্যের মধ্যে এক ধরণের আদিম ছোঁয়া আছে যা আমাদের আধুনিক ঘর সাজাতে দারুণ লাগে। বিশেষ করে তুরাগ মিলানোর জুয়েলারি ডিজাইনগুলো বেশ ইউনিক।"
ইউরোপের বাজারে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা সম্পন্ন বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা বলছেন, এই মেলা কেবল পণ্য বিক্রির জায়গা নয়, এটি ব্র্যান্ডিংয়ের বিশাল সুযোগ। সঠিক বিপণন ও সরকারি সহযোগিতা পেলে তৈরি পোশাকের বাইরেও জুয়েলারি এবং হস্তশিল্প খাতে বাংলাদেশ ফ্রান্সে বিশাল বাজার দখল করতে পারে। প্যারিসের এই বসন্তকালীন মেলা বাংলাদেশ এবং ফ্রান্সের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে—এমনটাই প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্ট সকলে।
কমেন্ট বক্স